বিজয়ের মাস

জেনে নিন জন্ম নিয়ন্ত্রণ এর সকল পদ্ধতি সম্পর্কে







জন্ম নিয়ন্ত্রণ এর আছে নানান পদ্ধতি। যারা নতুন বিয়ে করেছেন, অনেকেই বুঝতে পারেননা কোন পদ্ধতি গ্রহন করবেন। আজকে এই পদ্ধতিগুলোর খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করবো। আপনি দেখে নিতে পারেন কোনটি আপনার জন্য সুবিধা জনক।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রকারভেদ:
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গুলোকে প্রধানত: দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক) সনাতন পদ্ধতি
খ) আধুনিক পদ্ধতি।

ক) সনাতন পদ্ধতিঃ
যে পদ্ধতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ঐতিহ্যগত ভাবে সমাজে প্রচলিত আছে সেগুলোকে সনাতন পদ্ধতি বলে। যেমন:
১) প্রত্যাহার বা আযলঃ এর মানে হচ্ছে স্বামীর বীর্য বাইরে ফেলা।
২) বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো
৩) নিরাপদকাল মেনে চলা ও
৪) নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকা বা আত্মসংযম।

খ) আধুনিক পদ্ধতিঃ
আধুনিক পদ্ধতিকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
১) নন-ক্লিনিক্যাল এবং
২) ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি।

১) নন-ক্লিনিক্যাল:
যে পদ্ধতিগুলো অন্যের সাহায্য ছাড়া নারী-পুরুষ নিজেই ব্যবহার করতে পারে সেগুলোকে নন-ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমনঃ খাবার বড়ি, কনডম ইত্যাদি।

২) ক্লিনিক্যাল: যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের জন্য নারী-পুরষকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীর সাহায্য নিতে হয় সেগুলোকে ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমন:
ক) অস্থায়ী পদ্ধতি এবং
খ) স্থায়ী পদ্ধতি।


ক) অস্থায়ী পদ্ধতি : অস্থায়ী পদ্ধতি আবার কয়েক ধরনের রয়েছে। যেমন :
১) ইনজেকশন
২) আই.ইউ.ডি
৩)নরপ্ল্যান্ট

খ) স্থায়ী পদ্ধতি : এই পদ্ধতি দুই ধরনের। যথা :
১) পুরুষ বন্ধ্যাকরণ বা ভ্যাসেকটমী
২) নারী বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি বা লাইগেশন

নিচে পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো -

* খাবার বড়ি:
জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য বাজারে বিভিন্ন প্রকারের খাবার বড়ি পাওয়া যায়। যেমন: নরকোয়েস্ট, ওভাষ্ট্যাট, ওভাকন, মারভেলন, সি-৫, সুখী (স্বল্পমাত্রার বড়ি)। প্রত্যেক প্রকার বড়িতে হরমোনের মাত্রার পার্থক্য থাকতে পারে।
কার্যপদ্ধতি : ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ক হতে ও বের হতে বাধা দেয়।

সুবিধা :
১)সাফল্যের হার বেশী।
২)অনাকাংখিত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়।৩)অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া যৌন সহবাস করা যায়।
৪)মাসিক নিয়মিত হয়।
৫)মাসিকের রক্তস্রাব কম হয়।
৬) মাসিকের ব্যাথা থাকলে তা কমে যায়।৭) নিয়মিত বড়ি খাওয়ার ফলে অনেক মহিলার স্বাস্থ্য ভাল হয়।
৮) আয়রন বড়ির জন্য রক্তস্বল্পতা কম হয়।
৯)ডিম্বাশয় ও জরাযু ঝিল্লি¬তে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
১০) পি.আই.ডি (পেলভিসের সংক্রমণ ) কম হয়।
১১) বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে গর্ভধারণ করা যায়।
১২) কার্যকারীতা ও সাফল্যের হার বেশী। ১৩) অনাকাংখিত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়।


অসুবিধা:
১) প্রতিদিন মনে করে খেতে হয়।
২) যারা ধূমপান করে তাদের বেশী জটিলতা দেখা দেয়।
৩) টিউমার বা জন্ডিস থাকলে ব্যবহার করা যাবেনা।
৪) মাসিকের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
৫) ওজন বেড়ে যেতে পারে।
৬) মেজাজ খিটখিটে হয়।
৭) পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়ার পর গর্ভধারণে দেরী হতে পারে।
৮) এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নাই।

* কনডম :
কনডম রাবারের দ্বারা তৈরি চোঙ্গার মতো যার একদিক খোলা এবং একদিক বন্ধ বোঁটার মতো। এটি পুরুষের যৌনাঙ্গে পরতে হয়। বিভিন্ন নামে কনডম পাওয়া যায়। যেমন : রাজা, সুলতান, প্যানথার, ম্যাজিষ্টিক, সেনসেশন।

কার্যপদ্ধতি : সহবাসের সময় পুরুষাঙ্গে কনডম ব্যবহারের ফলে শুক্রকীট নারীর জরাযুতে প্রবেশ করতে পারে না । ফলে শুক্রকীট ডিম্বানুর সংস্পর্শে আসতে পারে না বলে নারী গর্ভবতী হয় না।

সুবিধা:
১) যে কোন পুরুষ ব্যবহার করতে পারে।
২) কোন ডাক্তারের সহযোগীতা লাগে না। ৩) কনডম বেশ সস্তা এবং সব জায়গায় কিনতে পাওয়াযায়।
৪) এইচআইভি/এইডস সহ নানা রকম যৌন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৫) যৌন সহবাস দীর্ঘায়িত হয়।
৬) জন্ম নিয়ন্ত্রনে পুরুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

অসুবিধা:
১) প্রত্যেক সহবাসে ব্যবহার করতে হয়। ২) দু’জন সঙ্গীরই যথেষ্ট সহযোগিতা থাকা দরকার।

কার্যকারীতা: প্রতিবার সঠিক নিয়মে কনডম ব্যবহার করলে ৮৮% ভাগ পর্যন্ত কার্যকর হয়। এছাড়া শুক্রকীট নাশক ফেনা বড়ির সাথে ব্যবহার করলে প্রায় ৯৯% ভাগ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

ইনজেকশন :
ইনজেকশন ২ প্রকার। যথা : DMPA- সাদা রং এর দ্রবীভূত জলীয় পদার্থ, ১ ডোজ ১ টি ভায়েলে থাকে।

কার্যপদ্ধতি:
১.জরায়ুর মুখে শ্লেষ্মা তৈরী করে ফলে পুরুষের শুক্রকীট জরাযুতে ঢুকতে পারেনা।
২. ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ক হতে ও বের হতে বাধা দেয়।
৩. জরায়ুর ভিতরের গায়ে ঝিল্লী¬র পরিবর্তন করে, ফলে ডিম্ব জরায়ুতে বসতে পারে না।

সুবিধা:
১.নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
২.ব্যবহার বিধি সহজ (৩ মাসের জন্য)।
৩. রক্ত জমাট বাধার সমস্যা দেখা যায় না।
৪. সহবাসের সাথে সম্পর্ক নাই।৫.গোপনীয়তা রক্ষা করে নেয়া যায়।
৬. বন্ধ করলে গর্ভধারণ করা যায়।
৭. প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী দিতে পারে।
৮. শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মা হলেও নেয়া যায়।

অসুবিধা:
১. অনেকের ইনজেকশন নেয়ার ক্ষেত্রে ভয় থাকে।
২. নিজে নেওয়া যায় না।

কার্যকরীতা : অত্যন্ত কার্যকরী প্রায় ১০০% ভাগ এবং নিরাপদ জন্মনিরোধক পদ্ধতি।

আই ইউ ডি বা কপার টি :
আই ইউ ডি (Intra Uterine Device) জরায়ুর ভেতরে ব্যবহারের জন্য একটি জিনিস যা জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। অনেক উন্নত ধরণের আই ইউ ডি পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। বর্তমানে কপার-টি সবচাইতে জনপ্রিয়।

সুবিধা:
১.ব্যবহার করা সহজ।
২.প্রতিদিন মনে করতে হয় না।
৩. যৌন সঙ্গমে বাধা সৃষ্টি করে না।
৪. বুকের দুধ কমে না।
৫. যে কোন সময় খুলে ফেলা যায়।
৬. খুলে ফেলার পর গর্ভধারনের ক্ষমতা ফিরে আসে।
৭. কম খরচে বহুদিন জন্মনিরোধ করা যায়।
৮) কার্যকারীতা খুব বেশী প্রায় ৯৪-৯৮%

অসুবিধা:
১.বারবার পরীক্ষা করতে হয়।
২.অনেকে এতে অস্বস্তি বোধ করেন।

নরপ্ল্যান্ট :
বর্তমানে এক প্রকার ৬টি ক্যাপসূলে ১ ডোজ পাওয়া যায়।

কার্যপদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে ছয়টি ছোট ছোট নরম চিকন ক্যাপসূল (দেয়াশলাই-এর কাঠির চেয়ে ছোট) মহিলাদের হাতের কনুইয়ের উপরে ভিতরের দিকে চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

সুবিধা:
১.পদ্ধতিটি ৫ বছরের জন্য কার্যকর
২.পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম
৩.যে কোন সময় ডাক্তারের কাছে গিয়ে খোলা যায়।

অসুবিধা:
১.নিয়মিত মাসিক না হওয়া বা অনেকদিন বন্ধ থাক।
২. মাসিক বন্ধ হলে গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
৩.মাসিকের সময় রক্তস্রাব বেশী হতে পারে।
৪.দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব হতে পারে।
৫.মাথা ব্যথা।
৬.ওজন বেড়ে যাওয়া।
৭.মন বিষন্ন থাকা।
৮.মুখে বা শরীরে মেছতার দাগ থাকলে বেড়ে যেতে পারে এবং মুখে লোম দেখা দিতে পারে।

কার্যকারীতা : এটি একটি সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।

ভ্যাসেকটমি:
ভ্যাসেকটমি বা পুরুষ বন্ধ্যাকরণ পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতি। ছোট্ট একটি অপারেশন এর মাধ্যমে এতে শুক্রকীটবাহী নালী দুটির কিছু অংশ বেঁধে কেটে দেয়া হয়।

সুবিধা:
১.অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ভয় না থাকায় সহবাসে আনন্দ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. তেমন কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই।৩.আর কোন পদ্ধতি গ্রহণের ঝামেলা থাকে না।

অসুবিধা:
যেহেতু স্থায়ী পদ্ধতি তাই পরবর্তীতে সন্তান চাইলেও তা প্রায় অসম্ভব।

কার্যকরীতা: স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং প্রায় ১০০%ভাগ কার্যকরী।

টিউবেকটমি/লাইগেশন : খুব ছোট অপারেশনের মাধ্যমে মহিলার প্রজনন ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করাই হচ্ছে লাইগেশন । জরায়ুর দুই ধারে দুটি ডিম্ববাহী নালী থাকে। সেই নালী দুটির কিছুটা অংশ বেঁধে কেটে দেয়াকে লাইগেশন বলে।
কার্যপদ্ধতি : ডিম্বাশয় থেকে ডিম্ব বের হয়ে শুক্রানুর সাথে মিলিত হতে পারে না, ফলে গর্ভ সঞ্চার হয়না।

সুবিধা:
অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ভয় না থাকায় সহবাসে আনন্দ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তেমন কোন পাশ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। আর কোন পদ্ধতি গ্রহণের ঝামেলা থাকে না। গর্ভবতী হলে মৃত্যুঝুঁকি আছে এমন নারীর জন্য খুবই প্রযোজ্য। আর সন্তান না চাইলে এই অপারেশন খুবই ভাল।

অসুবিধা:
১) যেহেতু স্থায়ী পদ্ধতি তাই পরবর্তীতে সন্তান ধারণ করতে চাইলেও তা সম্ভব নয়।
২) অপারেশনের পর একরাত হাসপাতাল অথবা ক্লিনিকে থাকতে হয়।

কার্যকরীতা : স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। প্রায় ১০০%ভাগ কার্যকরী।

পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা প্রাপ্তির জন্য যোগাযোগ
* পরিবার পরিকল্পনা কর্মী
* স্বাস্থ্য কর্মী
* স্যাটেলাইট ক্লিনিক
* ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
* মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
* উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
* জেলা হাসপাতাল
* বেসরকারী ক্লিনিক


জেনে নিন চোরাবালি কি এবং এর থেকে বাঁচার উপায়





চোরাবালির কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু এই চোরাবালির খপ্পড়ে যারা পড়েছেন কেবল তারাই জানেন এটি কতটা ভয়ংকর।

চোরাবালি আসলে কি?
সাধারণতভাবে আমরা চোরাবালি বলতে বুঝি- যখন বালি, কাদা বা নুড়ি গর্ভস্থ পানির প্রবাহের সান্নিধ্যে আসে, সেই বালি বা নুড়ির দানাগুলোর মধ্যে যে ঘর্ষণ শক্তি থাকে তা কম হয়ে যায়, আর সেই বালি বা মাটি ভার সহ্য করতে পারে না- একেই চোরাবালি বলে। এ ধরনের ব্যাপার আমরা সমুদ্র সৈকতে দেখতে পাই। সমুদ্রধারের বালিতে যদি কেও দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে খানিকক্ষণ পর দেখা যাবে যে ধীরে ধীরে তার পা বালির ভেতর বসে যাচ্ছে। এটাও এক ধরনের ছোটখাটো চোরাবালি। তবে এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা মাত্র কয়েক ইঞ্চি হয়। তাই সেসব স্থানে শুধু আমাদের পায়ের পাতা ডোবে। তবে যে সব স্থানে এর গভীরতা বেশি সেসব স্থান খুবই ভয়ংকর।

চোরাবালি পানি ও তরল কাদা মিশ্রিত এমনই একটি গর্ত, এর ফাঁদে একবার পা দিলে আর নিস্তার নেই। আস্তে আস্তে ডুবে যেতে হয় বালির ভেতর। যত নড়া যায় ততই ডুবে যেতে থাকে শরীর। সাধারণত নদী বা সমুদ্রতীরে কাদা মিশ্রিত বালির ভেতরে লুকানো অবস্থায় থাকে চোরাবালি। কোনও মানুষ যদি সেই গর্তের ধারে-কাছে যায়, তাহলে শরীরের চাপে ওই বালি ক্রমে সরে যেতে থাকে। ফলে মানুষ শত চেষ্টা করেও আর ওপরে উঠে আসতে পারে না। চোরাবালিতে পড়ার পর সেখান থেকে উঠে আসার জন্য চেষ্টা করলে শরীরের চাপে আরও দ্রুত ডুবে যেতে হয়। সময়মতো কেও এগিয়ে না এলে ওই মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ে। তবে অধিকাংশ চোরাবালি সাধারণত মারাত্মক নয়। তবে এটি প্রকৃতির একটি অদ্ভুত বিস্ময়।


কোথায় চোরাবালি বেশি হয়?
যেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনা আছে, সেসব জায়গায় একা একা বেড়াতে যাওয়া মোটেও উচিত নয়। যেসব জায়গায় পানি বেশি, সেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনাও বেশি। যেমন জলা, নদী, খাল, সমুদ্রতীর এবং জলাভূমি। যেসব জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ থাকে সেখানে চোরাবালি থাকতে পারে বা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

চোরাবালিতে আটকে গেলে যা করতে হবে :
চোরাবালিতে আটকে গেলে একদমই অধৈর্য হওয়া যাবে না। অধৈর্য হয়ে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করলে আরও বেশি আটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সবার মনে রাখা উচিত, চোরাবালি কিন্তু পানির চেয়ে অনেক বেশি ঘন। তাই চোরাবালিতে ভেসে থাকা পানির চেয়ে অনেক বেশি সহজ। যদি সঙ্গে কোনও ভারি বস্তু থাকে তাহলে তা ছেড়ে ফেলতে হবে।
কারণ ভারি বস্তু আরও বেশি দ্রুত নিচে টেনে নিতে পারে। বেশিরভাগ চোরাবালির গভীরতা কম হয়। খানিকটা ডোবার পর হয়তো পা তলায় আটকে যেতে পারে। যদি তা না হয়, মানে যদি চোরাবালি খুব গভীর হয় তাহলে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে যেমন পানিতে আমরা যেভাবে সাঁতার কাটি, ঠিক সেভাবে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব অনুভূমিক করে ফেলতে হবে। তারপর খুব ধীরে ধীরে সাঁতরে চোরাবালির বাইরে আসার চেষ্টা করতে হবে। সাথে যদি অন্য কোনও ব্যক্তি থাকে তাহলে তাকে বলতে হবে নিরাপদ দূরত্ব থেকে রশি ফেলতে এবং এই রশি ধরে ধীরে ধীরে চোরাবালি থেকে উঠে আসা যাবে।

জেনে নিন গোলমরিচের উপকারীতা এবং ঔষধি গুন কি কি ?






প্রাচীন কাল থেকে গোল মরিচের গুঁড়া ইউরোপীয় দেশগুলোতে খাদ্যের মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। লতাজাতীয় উদ্ভিদ গোল মরিচের ফল শুকিয়ে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঝাঁঝযুক্ত গোলমরিচ শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে নয় বরং পুষ্টিগুণেও সেরা। তাই আসুন জেনে নেই এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কিত দিক।

খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম গোল মরিচে পাবেন ১৭ কিলো ক্যালরি। এছাড়া প্রোটিন ১১.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮৬০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৯৮ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১৬.৮ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ গ্রাম, পটাসিয়াম ৯২ মিলিগ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.৭ মিলিগ্রাম।

তবে এই পুষ্টিমান গোল মরিচের উৎপাদনের স্থানের তারতম্যের জন্য কিছুটা পরিবতর্ন হতে পারে। গোল মরিচে থাকা পাইপারিন নামের রাসায়নিক উপাদানটি এর ঝাঁঝালো স্বাদ এনে দেয়। এখন জেনে নেব গোলমরিচের দারুণ উপকারী দিক সম্পর্কে।

* গোলমরিচ অন্ত্রের হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে।

* কফ, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিরাময় করে শরীরকে সুস্থ রাখে ।

* গোলমরিচের বাইরের আবরণ দেহের চর্বিজাতীয় কোষ ভাঙতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমানোর চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।

* শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে।

* ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং তা প্রতিরোধ করে।

* প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য রোগের জন্য উপকারী।

* গোলমরিচের তেল ত্বক ভালো রাখে। বিশেষ করে ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

* এটি দাঁত এবং মাড়ির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে গোল মরিচ রাখতে পারেন।



জেনে নিন লজ্জাবতী গাছের গুনাগুন ও উপকারীতা





এই গাছটির বাংলা নাম লজ্জাবতী। আবার কেউ কেউ একে লাজুক লতা বলে থাকেন । তবে স্থানভেদে এর আরও অনেক নাম আছে।

পরিচয় : এটি বর্ষজীবী গুল্ম আগাছা বা ওষুধী গাছ। এর কাণ্ড লতানো, শাখা প্রশাখায় ভরা এবং কাঁটাযুক্ত। কিছুটা লালচে রঙের। এটি সহজে ভাঙ্গে না বরং পেচিয়ে টানলে ছিড়ে যায়।
এর পাতা যেীগিক পত্র। কয়েক জোড়া পাতা বিপ্রতীপভাবে থাকে। অনেকটা দেখতে তেতুল পাতার মত। হাত ও পায়ের স্পর্শে লজ্জ্বাবতীর পাতা বুঁজে এসে বন্ধ হয়ে যায়। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। এর ফুল উভলিঙ্গ। বৃতির সংখ্যা ৪ টি, পাপড়ী ৪টি, ফুল গুলি বেগুনী ও গোলাপী রঙের। ফল দেখতে চ্যাপ্টা এবং একত্রিত। সাধারণত মে থেকে জুন মাসে ফুল আসে, জুলাই আগষ্টে ফুল থেকে ফল হয় এবং জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ থেকে চারা গজায়।

ব্যবহৃত অংশঃ-এর উপকারী অংশ পাতা ও মুল। পাতায় এ্যাকোলয়ড ও এড্রেনালিন এর সব উপকরণ থাকে। এছাড়াও মুলে ট্যানিন থাকে।

ব্যবহারঃ-
দন্ত রক্ষা : দাতেঁর মাঢ়ির ক্ষত সাড়াতে গাছসহ ১৫ থেকে ২০ সে.মি. লম্বা মূল পানিতে সিদ্ধ করে সে পানি দিয়ে কয়েক দিন দিনে ৩ বার কুলকুচা করলে ভালো হয়।

অর্শ : সাদা ফুলের লজ্জ্বাবতীর পাতা ও মুল পিষে রস বের করে নিয়মিত খেলে পাইলস্ ও ফিস্টুলায় আরাম পাওয়া যায়।

লিংগের শৈথিল্য : লজ্জাবতীর বীজ দিয়ে তৈরি তেল লাগিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করলে তা দৃঢ় হয়।

যৌনি ক্ষতে : যে কোন কারনে যোনি পথে ক্ষত হলে, প্রথমিক স্তরে মাঝে মাঝে অথবা প্রায় রোজই অল্প স্রাব চলতে থাকে, একটা আশটে গন্ধ, কখনো বা একটু লালচে স্রাব হয়, এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক সাবধান করে থাকেন, এটি পরিণামে ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে ।এক্ষেত্রে দুধ-জলে সিদ্ধ করা লজ্জাবতীর কাথ দিনে ২ বার খেলে এ রোগ উপশম হয়। একই সাথে লজ্জাবতীর ক্বাথ দিয়ে ডুশ দিলে বা যোনিপথ ধুলে তাড়াতাড়ি ক্ষত সেরে যায়।

আঁধার যোনি ক্ষতে : এ বিচিত্র রোগটি কৃষ্ণপক্ষে বেড়ে যায় আর শুক্লপক্ষে শুকাতে থাকে । এ ক্ষতটি হয় সাধারণত: হাটুর নিচে আর না হয় কুঁচকির দু’ধারে। এক্ষেত্রে গাছও পাতা ( মূল বাদে ) ১০ গ্রাম শুধু জল দিয়ে ক্বাথ করে খেতে হয় এবং ঐ ক্বাথ দিয়ে মুছতে হয়, ফলে অসুবিধা দুর হয়।

রমনে অতৃপ্তি : কয়েকটি সন্তান হওয়ার পর প্রসবদ্বারের শৈথিল্য হয়েছে , সেটার অনেকটা মেরামত করে দিয়ে থাকে এ লজ্জাবতীর ক্বাথের ডুশ নেওয়ায়, আর গাছের পাতা সিদ্ধ ক্বাথ দিয়ে তৈরি তেলে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পিচু ধারণ করাতে হয়। এছাড়া অন্ডকোষের পানি জমা সারাতে পাতার পেস্ট ব্যবহার করা হয়।

আমাশয় : অনেকের আছে পুরানো আমাশয় । মল ত্যাগের বেগ হলে আর অপেক্ষা করতে পারে না । গিয়ে প্রথমে যা হল তারপর আর হতে চায় না ।আবার অনেকের শক্ত মলের গায়ে সাদা সাদা আম জড়ানো থাকে। এক্ষেত্রে ১০ গ্রাম লজ্জাবতীর ডাঁটা ও পাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এ ক্বাথ খেলে তারা অবশ্যই উপকার পাবেন।

দুর্গন্ধ দুর করতে : অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং জামায় বা গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে, এক্ষেত্রে লজ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শরীর মুছতে হবে বা লাগাতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দুর হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য : অনেকের মল গুলটে হয়ে যায়, বুলেটের মত কয়েকটা বের হয়, আর কিছুই নেই। এক্ষেত্রে মূল ৭ / ৮ গ্রাম থেঁতো করে সিদ্ধ করতে হবে এবং ছেঁকে ঐ পানিটা খেতে হবে । তাহলে উপকার হবে।


জেনে নিন কিভাবে, কি খেলে মায়ের গর্ভের বাচ্চা ফর্সা হবে







আজকে যে বিষয়টি নিয়ে হাজির হয়েছি তা নিয়ে সবার মনেই কৌতূহল আছে। আমাদের দেশের এমন কেউ নেই যে ফরসা সুন্দর বাচ্চা কামনা করেনা। তাই কিভাবে গর্ভের বাচ্চা ফরসা হবে, কি খেলে বাচ্চার ত্বক ফরসা হবে তা নিয়ে আজকের এই পোস্ট।
গবেষকরা বলছেন, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ই সন্তানের গাত্র বর্ণ নির্ধারিত হয়। গায়ের বর্ণ ফর্সা হবে না কালো, এর জন্য দায়ী ২-৩টি বিষয় –
১) বাবা-মায়ের জিন,
২) মেলানিন হরমোনের নিঃসরণ,
৩) জায়গা ও আবহাওয়া।

আরও একটি বিষয়কে তুলে ধরেছেন গবেষকরা। গর্ভবর্তী মায়ের খাদ্যাভাস। তিনি কী খাবার খাচ্ছেন, তার উপরও নাকি সন্তানের বর্ণ নির্ভর করে। আমাদের দেশে ফর্সা হওয়া একটা বড় গুণ (যদিও বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির এতে কোনও কৃতিত্বই নেই)। তবুও ব্যক্তির দোষগুণ বিচারে, তাকে গ্রহণ করার ব্যাপারে চামড়ার রং কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এটাই এ দেশের মানুষের মানুষিকতা। ফলে ফেয়ারনেস ক্রিমের চাহিদাও এ দেশে ব্যাপক । তাই সানস্ক্রিন মেখে রোদে বেরানো, ডাল বাটা, দুধের সর মুখে মাখার খুব ধুম। তাছাড়া কালো মেয়েকে বিয়ে করতে চায় না কেউ। এমতবস্থায় কোনও শিশু যদি ফুটফুটে দুধের মত রং নিয়ে জন্মায়, এমনিতেই তার কদর বেড়ে যায়। তাই গর্ভাবস্থায় মাকে খেতে হবে এমন সব খাবার, যা শিশুর বর্ণ করবে দুধে আলতা রং । যেমন-

১. গর্ভের শিশুর ত্বক ভালো করতে মাকে খেতে হবে রোজ কমলালেবু। এতে করে শিশু ফরসা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

২. শিশুকে সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রে থেকে বাঁচাতে গর্ভবতী মাকে খাতে হবে টোম্যাটো যাতে বাচ্চার ত্বকে কোন প্রভাব না পড়ে।

৩. শিশুর ত্বক উজ্জ্বল করতে মাকে রোজ খেতে হবে চেরি ও বেরি ফল।

৪. গর্ভাবস্থার ৪,৫,৬ মাসে রোজ নিয়ম করে মা যদি ডিমের সাদা অংশ খান সন্তানের গৌর বর্ণ হবেই। কুসুমও খেতে পারেন, তাতেও কাজ হবে ।

৫. গর্ভাবস্থার ৯ মাসই যদি কোনও মা নিয়ম করে দুধে জাফরান মিশিয়ে খান, তাহলে তার সন্তান ফর্সা হবে।

৬. ঠাকুমা, দিদিমাদের মুখের শোনা কথা, গর্ভবতী মাকে যদি নারকেলের সাদা শাঁস নিয়ম করে খাওয়ানো হয়, তবে সন্তান নাকি খুব ফর্সা হয়।
তবে অতিরিক্ত নারকেল না খাওয়াই ভালো। এতে ক্ষতি হতে পারে।

তো আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আপনারা ভাল থাকবেন।