টেক পার্ক

তথ্য ও প্রযুক্তির মশাল জ্বলে উঠুক হাতে হাতে

জেনে নিন গর্ভাবস্থায় শরীর, হাত, পা ফুলে গেলে কী করবেন?

Edema in pregnancy

 
 
গর্ভাবস্থায় জরায়ুর আকার বাড়ার সাথে সাথে মায়েদের পেলভিক শিরা এবং ভেনা কেভাতে চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে নিম্নাঙ্গ থেকে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ কমে যায় যার ফলে শিরা থেকে তরল বের হয়ে তা শরীরের টিস্যুতে জমা হয়। এই অতিরিক্ত তরল জমার ফলে শরীর নরম থাকে যাতে বাচ্চা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে মায়ের শরীরও বড় হতে পারে। এই অতিরিক্ত তরল পেলভিক জয়েন্ট এবং টিস্যুগুলোকে বাচ্চা প্রসবের জন্য উপযোগী করে তোলে। সাধারণত তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে শরীরে পানি আসা বা ফুলে যাওয়ার প্রবনতা দেখা দেয়। যাদের এমনিওটিক ফ্লুইড বেশী থাকে এবং গর্ভে যমজ সন্তান থাকে তাদের ক্ষেত্রে এর মাত্রা বেশী থাকতে পারে। সাধারণত দিনের শেষে বা গরম কালে এটি বেশী হতে পারে।
আসুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় ফোলা কমাতে কি কি করা যেতে পারে-
 
১) বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা পা নিচের দিকে মাটিতে রেখে বসে থাকলে শরীরের শিরার উপর চাপ পড়ে। যার ফলে ফোলা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে কিছুক্ষন পর পর কিছু সময় বসে থাকুন। বসার সময় পা কিছুর উপর তুলে রাখতে পারেন। আরামদায়ক জুতা ব্যাবহার করুন। টাইট জুতা বা লম্বা হীলের জুতার কারণে পা আরও বেশী ফুলে যেতে পারে।
 
২) যখন বিশ্রাম নেবেন বা শুয়ে থাকবেন তখন পায়ের নীচে বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে পা উপরের দিকে তুলে রাখুন। এতে যেমন আপনার রিলাক্স হবে তেমনি এতে শরীরে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবেনা। সবচাইতে ভালো হয় যদি শুয়ে থাকা অবস্থায় পা আপনার হার্টের চাইতে উপরে রাখা যায়। তবে যেটা আপনার জন্য আরামদায়ক সেটাই করুন।
 
৩) গর্ভাবস্থায় ঢিলা এবং আরামদায়ক কাপড় পরার চেষ্টা করুন, যাতে শরীর কোন চাপ না পড়ে। এ ছাড়াও সুতি কাপড় পড়লে অতিরিক্ত গরম লাগার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। গরমের কারণে ইডেমা আরও বাড়তে পারে। এজন্য গরম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
 
৪) ব্যায়ামের ফলে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং অতিরিক্ত তরল দেহ থেকে বেড়িয়ে যায়। তবে কোন কোন ব্যায়াম গর্ভাবস্থায় আপনার জন্য উপযোগী সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করে নিন। নিয়মিত হাঁটাচলা করুন এবং মুভমেন্টে থাকার চেষ্টা করুন।
 
৫) আপনার শোওয়ার ঘর যাতে ঠাণ্ডা, আরামদায়ক এবং বাতাস চলাচলের ব্যাবস্থা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাম পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এটা শরীরের ডান পাশে থাকা শিরায় চাপ কম পড়বে যা শরীরের নিম্নাংশ থেকে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ করে। বিছানার চাদর যাতে সুতির কাপড়ের তৈরি হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এতে ঘুমানোর সময় বেশী গরম লাগবেনা।
 
৬) অতিরিক্ত লবন শরীরে পানি ধরে রাখে। তাই খাবারে অতিরিক্ত লবন পরিহার করুন। সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন প্যাকেটজাত খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত সোডিয়াম কমানোর আরেকটি উপায় হলো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, যেমন- কলা, অ্যাপ্রিকট, কমলা, মিষ্টি আলু, বিট ইত্যাদি।
 
৭) শরীরের অতিরিক্ত পানি কমানোর জন্য পানি খাওয়া তা আশ্চর্যের মনে হলেও গর্ভাবস্থায় এটা উপকারী। এতে আপনি যেমন হাইড্রেটেড থাকবেন তেমনি এর ফলে অতিরিক্ত তরল প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেড়িয়ে যাবে। তবে চিনি সমৃদ্ধ পানীয়, যেমন সোডা বা প্যাকেটজাত জুস না খাওয়াই ভালো।
 
৮) অতিরিক্ত গরমে শরীর আরও বেশী ফুলে যেতে পারে। তাই গরমে বাইরে না যাওয়ার চেষ্টা করুন এবং ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।
 
৯) সাঁতার কাটা খুবই উপকারী । কারণ এতে শরীরে রক্ত এবং তরল প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। যদি সাঁতার না পারেন তবে সুইমিং পুলে নেমে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতেও উপকার হয়।
 
১০) গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাবার খেতে চেষ্টা করুন। এতে শরীরে পানি আসার সমস্যা কমে যেতে পারে। ধুমপানের কারণে এ সমস্যা বাড়তে পারে তাই ধুমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।
 
১১) কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ম্যাসাজের ফলে শরীরে ফুলা কমতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে বেশী জোরে মাসাজ করা না হয়, যাতে ব্যাথা না লাগে। এমনভাবে মাসাজ করা উচিত যাতে মাসাজের স্ট্রোকগুলো হার্টের দিকে হয়।
 
এছাড়াও গর্ভাবস্থায় উপযোগী কিছু কমপ্রেশন স্টকিংস, টাইটস এবং মোজা পাওয়া যায়। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সেগুলো ব্যাবহার করতে পারেন।
সবশেষে মনে রাখবেন ইডেমা বা শরীরে পানি আসা বা শরীর ফুলে যাওয়া গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক যদি না এর সাথে অন্য লক্ষনগুলো দেখা দেয়। তাই সতর্কতা জরুরী। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
 
 

 

স্ট্রোক কী, স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিক করণীয় কী কী ?


স্ট্রোক হলে করণীয় কী কী


স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালীর একটি রোগ। মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে অথবা ব্লক হওয়ার  কারণে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়ে আক্রান্ত অংশের কোষ নষ্ট হওয়াকে স্ট্রোক বা ব্রেন স্ট্রোক বলে৷ 

স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর বেঁচে থাকার অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই রক্ত সরবরাহ দুই থেকে পাঁচ মিনিটের বেশি বন্ধ থাকলেই স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়।

 

স্ট্রোকের লক্ষণ বা উপসর্গঃ

১) শরীরের কোনো একদিকে দুর্বলতাবোধ করা বা নাড়াতে না পারা

২) হাত-পা অবশ অবশ ভাব হওয়া 

৩) মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া

৪) প্রচণ্ড মাথাব্যথা হওয়া 

৫) কথা অস্পষ্ট হওয়া, জড়িয়ে যাওয়া বা বলতে না পারা

৬) বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব হওয়া 

৭) দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

৮) মুখের অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া

৯) বেসামাল হাঁটাচলা বা ভারসাম্য না থাকা

১০) হঠাৎ খিঁচুনি বা ধপ করে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হওয়া ইত্যাদি।


স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়ঃ উপরোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে স্ট্রোক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এমন হলে যা করতে হবে তা হলো :

১) রোগীকে একদিকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় কোনো খাবার বা ওষুধ মুখে দেওয়া যাবে না। কারণ এগুলো শ্বাসনালিতে ঢুকে আরো ক্ষতি করতে পারে।

২) মুখে জমে থাকা লালা, বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে।

৩) গায়ে থাকা জামা-কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে বা সম্ভব হলে খুলে দিতে হবে

৪) রোগীকে অতি দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিতে হবে৷ মনে রাখবেন, রোগীকে যত দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হবে তত ক্ষতি কম হবে৷ যত দেরি হবে ততই ব্রেনের কোষ ধ্বংস হয়ে যাবে৷ 

৫) হাসপাতালে যাওয়ার সময় খেয়াল করে রোগীর আগের চিকিৎসার ফাইলপত্র নিতে হবে।


প্রয়োজনীয় পরীক্ষাঃ

কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে জরুরী ভিত্তিতে ব্রেইনের রেডিওলজিক টেস্ট, সিটিস্ক্যান, এমআরআই করা উচিত। ঘাড়ের রক্তনালির ডপলার, হার্টের সমস্যার জন্য ইকো পরীক্ষা করা উচিত। রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও পরীক্ষা করে নিতে হবে। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষাও করতে হবে।


তাৎক্ষনিক চিকিৎসাঃ স্ট্রোক হলে যেহেতু মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং কম রক্তপ্রবাহ নিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, তাই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করতে হয়। ওষুধ প্রয়োগ করে রক্তের চাপ, রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। রক্তের জমাট বাঁধা অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে। প্রাথমিক ধাপ কাটিয়ে ওঠার পর দীর্ঘদিন ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্ট্রোক হয়েছে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিলম্বে চিকিৎসা নিলে জটিলতা বাড়ে এবং রোগী মারাও যেতে পারে। 


চীনের বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন। 

১। স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। তাই প্রথম কাজ হবে ওই ব্যক্তির বিশ্রামের ব্যবস্থা করা।

২। রোগীকে সরানো যাবে না, নড়াচড়া করা যাবে না। কারণ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বিস্ফোরিত হতে পারে।

৩। পিচকারি সুই অথবা সেলাই সুই কয়েক সেকেন্ড আগুনের শিখার উপরে রেখে গরম করে নিয়ে সুচটি জীবানুমুক্ত করতে হবে। তারপর সুচ দিয়ে রোগীর হাতের ১০টি আঙুলের ডগার নরম অংশে ছোট ক্ষত করতে হবে। এমনভাবে করতে হবে যাতে প্রতিটি আঙুল থেকে রক্তপাত হয়। এ কাজটি করার জন্য কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে আঙুল থেকে যেন যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত বের হয়। 

এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন, দেখবেন রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।

৪। যদি আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বিকৃত হয় তাহলে তার কানে ম্যাসেজ করতে হবে। এমনভাবে ম্যাসেজ করতে হবে যাতে রোগীর কান লাল হয়ে যায়। লাল হলে বুঝতে হবে কানে রক্ত পৌঁছেছে।

৫। এরপর দুই কান থেকে দুই ফোঁটা রক্ত পড়ার জন্য কানের নরম অংশে সুচ ফুঁটাতে হবে। কয়েক মিনিট পর দেখবেন মুখ আর বিকৃত হবে না।

এরপর রোগী মোটামুটি স্বাভাবিক হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার এই পদ্ধতিকে বলা হয় রক্তক্ষয় পদ্ধতি। চীনে চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রথাগতভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রয়োগ শতভাগ কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।


স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়ঃ

* নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে

* কেউ উচ্চ রক্তচাপের রোগী হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ খান এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

* ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন

* নিয়ম করে হাঁটা ভালো

* দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করুন

* মানসিক চাপ পরিহার করে চিন্তামুক্ত থাকুন

* ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

* মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। 



জেনে নিন ব্রয়লার মুরগির মাংস খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

ব্রয়লার মুরগির মাংসের ক্ষতিকর দিক

 আপনি যদি পোলট্রি ফার্মের মুরগিগুলোর ভীতিকর বিষয়গুলো জানতে পারেন, তাহলে পরের বার মাংস খাওয়ার আগে একটু  চিন্তা করবেন৷ আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এসব মাংস ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে, কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

বোল্ডস্কাই ওয়েবসাইটের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়া বিষয়ে একটা প্রতিবেদন। তাই  চলুন আজকে দেখে নেওয়া যাক, এ ধরনের মাংস কী কী ক্ষতি করে- 

১. অ্যান্টিবায়োটিকঃ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সাধারণত মানব শরীরে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, সেসব অ্যান্টিবায়োটিক মুরগির শরীরে দেওয়া হয়ে থাকে। এসব মুরগির মাংস খাওয়া মানব শরীরে বাজে প্রভাব ফেলে। তাই মুরগি কেনার আগে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করে কিনুন। জানুন, এসব দেওয়া হচ্ছে কি না।

২. বৃদ্ধির জন্য হরমোনঃ আগেকার মুরগিগুলোর থেকে এখন অনেক চর্বিযুক্ত বড় মুরগি দেখতে পাওয়া যায়। এর কারণ হলো, মুরগিকে বড় করতে বেশির ভাগ সময় হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়। মুরগির মাংসের মধ্যে থাকা এসব হরমোন মানব শরীরের ক্ষতি করে।  

৩. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিতঃ কেবল বিভিন্ন ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করাই নয়, গবেষণায় বলা হয়- ৯৭ ভাগ মুরগির বুকের মাংসে ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমিত হয়ে থাকে। বেশির ভাগ মুরগিতে এই ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।

তাই মুরগির মাংস কাটাকাটি বা রান্নার পর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। মুরগির মাংস ভালোভাবে রান্না করুন। কেনার সময় প্লাস্টিকের ব্যাগে বহন করুন। মুরগির মাংস কাটার পর, রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

৪. বিষাক্ত আর্সেনিকঃ মুরগির মাংসের মধ্যে বিষাক্ত আসের্নিক পাওয়া যায়। এটি মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হরমোন ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহারের কারণে মুরগির মাংসে এসব আর্সেনিক পাওয়া যায়।



ব্রয়লার মুরগির মাংস খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

 

ব্রয়লার মুরগির মাংস খেলে যা ক্ষতি হয়


ব্রয়লার মুরগি মানব দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এবার তুলে ধরা হলো ব্রয়লার মুরগির মাংসের ৭টি ক্ষতিকর তথ্য যা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন, সহজে খেতে চাবেন না ব্রয়লার মুরগির মাংস ৷ 

১) মাংস খাওয়ার জন্যই এই ধরনের মুরগি বড় করা হয়। এরা ডিম পাড়ে না। ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যেই এরা বেড়ে ওঠে এবং বিক্রি করে দেওয়া হয় পোলট্রি-বাজারে।

২) ব্রয়লার মুরগিকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়, যা মানুষের ব্রেনের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এর ফলে নিউরোলজিক্যাল সমস্যাও হতে পারে।

৩) ব্রয়লার মুরগিতে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব থাকার ফলে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিসট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কমে যায়।

৪) ব্রয়লার মুরগিকে অল্প সময়ে মোটাসোটা করার জন্য সিনথেটিক হরমোন দেওয়া হয়, যা মানুষের প্রজনন ক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটায়।

৫) ব্রয়লার চিকেন রান্না করার সময়ে তাপমাত্রা খুবই বেশি রাখতে হয়, যা কারসিনোজেনিক নামে এক পদার্থ তৈরি করে। এই পদার্থ মানব শরীরে ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে।

৬) ব্রয়লার মুরগিরা যাতে সুস্থ থাকে, তার জন্য তাদের শরীরে আর্সেনিক প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু, এই রাসায়নিক পদার্থ মানব শরীরের জন্য একেবারেই ঠিক নয়। ডায়াবেটিস, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা ও ক্যানসার হতে পারে এর ফলে।

৭) ব্রয়লার চিকেনে ফাইবার খুবই কম থাকে, কিন্তু ক্যালোরি থাকে প্রচুর পরিমাণে। যে কারণে শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।



অনপেজ এসইও করতে কী কী বিষয় জানা জরুরী

 

অন পেজ এসইও


আমরা অনেকেই সাইট তৈরি করেছি  কিন্তু আমরা কি সঠিকভাবে আমাদের সাইটে অন পেজ সেটআপ করতে পেরেছি? সাইট Ranking এর ক্ষেত্রে অন পেইজ এসইও এর ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন পেইজ এসইও সঠিকভাবে না করার কারণে আমরা বেশিরভাগ সময়ই আমাদের সাইটের Ranking ধরে রাখতে পারিনা ফলে প্রচুর ভিজিটর হারিয়ে ফেলি। আজকেই এই পোস্টে আমি আপনাদের মাঝে অন পেইজ এসইও এর মারাত্মক কিছু ভুল নিয়ে কথা বলবো এবং কিভাবে আপনি এই ভুল এর সঠিক সমাধান করবেন সেটা নিয়েও আলোচনা করবো, তাহলে চলুন শুরু করা যাক-
 
১) টাইটেল: আমরা বেশিরভাগ সময়ই টাইটেল ঠিকভাবে লিখিনা যার কারণে বেশিরভাগ ভিজিটর হারিয়ে ফেলতে হয়, টাইটেল অবশ্যই ৫০ থেকে ৬০ ক্যারেকটার এর মধ্যে তৈরি করতে হবে, টাইটেল এর মধ্যে অবশ্যই আপনার পেইজ এর মেইন কীওয়ার্ড থাকতে হবে। অর্থবহ এবং আকর্ষণীয় টাইটেল তৈরি করতে হবে।
 
২) সঠিক পেইজ ​URL ব্যবহার না করা: সঠিকভাবে পেইজ ​URL ব্যবহার ব্যবহার করতে হবে, ​​URL সবসময় ছোট হতে হবে, ​​URL পেইজ এর মেইন কীওয়ার্ড ​দিয়ে করা ভাল, অর্থবহ ​​URL তৈরি করতে হবে, ​​​URL এ সংখ্যা ব্যবহার না করা ভাল।
 
৩) ​মেটা ডেসক্রিপশন: ভিজিটর সবসময়ই আপনার ডেসক্রিপশনের দিকে খেয়াল করেই সাইটে প্রবেশ করে, তাই সঠিকভাবে ডেসক্রিপশন লিখতে হবে। Meta Description ১৫০-১৬০ ক্যারেকটার এর মধ্যে লিখতে হবে, Meta Description​ এ মেইন কীওয়ার্ড ​রাখতে হবে।
 
৪) ছবিতে ALT Text দেয়া: কন্টেন্টের ভিতরে ছবি ব্যবহার করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি ছবিতে ALT Text ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাইটের ভিজিটর বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ALT tag সবসময় কীওয়ার্ড ফোকাস করে দিতে হবে। ALT tag এ ওয়ার্ড সেপারেটর হিসেবে স্পেস ই ব্যবহার করতে হয়।
 
৫) Heading Tag ব্যবহার: সাইটে অবশ্যই Heading Tag সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। পেইজ এর ​টাইটেল এ অবশ্যই H1 Heading Tag ব্যবহার করা উচিৎ। একটি পেইজ এ H1 ট্যাগ একবারই ব্যবহার করা ভাল, আপনার পেইজ এ কন্টেন্ট এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ Heading গুলিকে H2 / H3 ট্যাগ এ করা ভালো।
 
৬) ​ইন্টার্নাল লিংক:  আপনার সাইটে যে কন্টেন্টটি আপনি লিখছেন ঠিক একই ক্যাটাগরির কন্টেন্টকে আপনার সাইটে লিঙ্কিং করে দেন। এতে আপনার এই কন্টেন্টের পাশাপাশি লিংক করা কন্টেন্ট টাও রাঙ্ক করতে সহায়তা করবে।
 
৭) মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিম: সাইটটি অবশ্যই মোবাইল ফ্রেন্ডলি করে ডিজাইন করতে হবে। কেননা Google এর মতে ৫৮% সার্চ আসে মোবাইল থেকে। সুতরাং আপনার ওয়েবসাইট অবশ্যই Mobile Friendly হতে হবে। আপনার সাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন কিনা তা জানতে এই লিংক থেকে চেক করতে পারেন। 
 
৮) ​পেজ লোডিং স্পিডঃ আপনার সাইটের পেজ স্পিড ধীর গতির হলে জেনে রাখেন আপনার সাইট বহুদুরে সরে যাচ্ছে। আপনার সাইট তিন সেকেন্ডের মধ্যে লোড না হলে ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ভিজিটর হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পেজ স্পিডের দিকে নজর দিন। Google এর মতে ৫৩% ইউজার মোবাইল এ আপনার ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে যায়, যদি পেইজ টি লোড হতে ৩ সেকেন্ড এর বেশী সময় লাগে।
আপনার ওয়েবসাইট এর লোডিং স্পিড কত জানতে এই লিঙ্ক এ ক্লিক করে আপনার সাইট টি চেক করুন। ​
 
যতটুকু জানি সাজিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি, এগুলো সবই অন্য ব্লগ থেকে পড়ে আমার মতো করে গুছিয়ে লেখেছি।