গাইনেকোমাশিয়া কি? এর কারন ও প্রতিকার






কেমন আছেন আপনারা? আজ আপনাদের সামনে নতুন একটা রোগের তথ্য নিয়ে হাজির হলাম। সেই রোগের নাম হচ্ছে গাইনেকোমাশিয়া। এটা কেবল ছেলেদের বা পুরুষ লোকদের হয়ে থাকে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এটাকে রোগ বলা হয় না।

গাইনেকোমাশিয়া কি ?
সাধারণভাবে একটা যুবতী মেয়ের বুক স্ফীত হয়ে যায় স্তন বড় হয়ে যাওয়ার কারনে। সাধারণত মেয়েদের ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সে মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হয়। আর এ সময় তাদের স্তন স্ফীত হয়ে যায়। তাদের বুকের গঠন উন্নত হয়ে একটা বাড়তি সৌন্দর্য ফুটে উঠে।
কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে এই বয়সে স্তন স্ফীত হয় না। এটা আমরা সবাই জানি।
তবে যাদের স্তন স্ফীত হয় তাদের সেই সমস্যাটাকে গাইনেকোমাশিয়া বলে। সহজ কথায় বলতে গেলে মেয়েদের মত ছেলেদের স্তন বা ব্রেস্ট স্ফীত হলে বা বড় হলে তাকে গাইনেকোমাশিয়া বলে। সাধারণত পুরুষ এবং নারী হরমোন ভারসাম্যহীনতার কারনে এমনটি হয়ে থাকে। এছাড়াও আরো কিছু কারন রয়েছে।


কি কি কারনে গাইনেকোমাশিয়া হয়ে থাকে?

১. কোনো কারণে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে।

২. কিছু কিছু ঔষধ খাওয়ার ফলে হতে পারে। সেক্ষেত্রে উক্ত ঔষধ বন্ধ করে দিলে সমাধান হয়ে যায়।

৩. হার্টের রোগে ব্যবহৃত কিছু ওষুধের জন্য।

৪. কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এর জন্য হয়ে থাকে।

৫. তীব্র জটিল কোন রোগে কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে হতে পারে।

৬. অ্যালকোহল, বিয়ার, হেরোইন, মারিজুয়ানা বা অন্য কোনো নেশা থাকলে।

৭. হার্বাল প্রডাক্ট যাতে চা গাছের তেল থাকে বা ল্যাভেন্ডার তেল থাকে সেটার কারনে হয়ে থাকে।

এছাড়া ও মাঝে মাঝে থায়রয়েড গ্রন্থির সমস্যা, কিডনির সমস্যা, কিংবা অন্য কোনো গ্রন্থির সমস্যার জন্যও হতে পারে।

চিকিৎসা:
১.ডাক্তার দরকারি ডায়াগনসিস করিয়ে নেওয়ার পরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমানোর ঔষধ দিলে সেরে যেতে পারে।

২. হরমোন ট্রিটমেন্ট নেওয়ার পর কাজ না হলে সার্জারি করার মাধ্যমে এটা ঠিক হতে পারে। এজন্য ডাক্তার অপারেশন এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্রেস্ট টিস্যু ও ফ্যাট বের করে দেবেন এবং নিপল ঠিক করে দেবেন (যদি দরকার হয়)।
এক্ষেত্রে আপনাকে পরবর্তীতে ব্রেস্ট শেপ ঠিক রাখার জন্য পরে সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে হবে। আর এজন্য কোনক্রমেই ওজন বাড়তে দেওয়া যাবে না, স্টেরয়েড জাতীয় কোনো ওষুধ নেওয়া যাবে না।

জেনে রাখা দরকার যে, ৭০% পুরুষের ব্রেস্ট কিছুটা বাড়তি হয় যা স্বাভাবিক এবং এর জন্য কোনো চিকিৎসা লাগে না। এছাড়া টিনেজ ছেলে ও ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রেও এরকম সমস্যা দেখা যায় কিন্তু তা সাময়িক হয় এবং এমনিতেই সেরে যায়।