টনসিলাইটিস এর কারন, লক্ষন ও চিকিৎসা




জিহ্বার শেষ প্রান্তে, আলজিহ্বার নিচে দুই পাশে (ডান ও বাম পাশে ) বাদামের মতো ১.৫ সেন্টিমিটার আকারের লাল বর্ণের মাংসপিণ্ডকে টনসিল (Tonsil) বলা হয়ে থাকে। টনসিল দেখতে মাংসপিণ্ডের মতো মনে হলেও এটি আসলে লসিকা কলা বা লিম্ফয়েড টিস্যু দিয়ে তৈরি।
জন্ম থেকেই আমাদের গলার মধ্যে এই টনসিল থাকে এবং বাচ্চাদের বেলায় টনসিল আকারে বড় দেখা যায় এবং পর্যায় ক্রমে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টনসিল ক্রমান্বয়ে ছোট হতে থাকে।



টনসিলের কাজ কি? 
মুখ, গলা, নাক কিংবা সাইনাস হয়ে রোগজীবাণু অন্ত্রে বা পেটে ঢুকতে বাধা দেয় এই টনসিল অর্থাৎ টনসিল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে৷ এছাড়াও  এ কাজে জড়িত আছে আরও ৩২৮টি গ্রন্থি ৷ তাই টনসিল ছাড়াও মানুষ কোন রকম সমস্যা ছাড়াই সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে পারে ৷

টনসিলাইটিস কি ?
টনসিলাইটিস হচ্ছে মুখ গহবরের ভিতরে অবস্থিত টনসিল সমূহ যখন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহের বা ইনফেকশনের সৃষ্টি করে তখন তাকে টনসিলাইটিস বলে৷
সাধারণত টনসিলের প্রদাহ বর্ষায় বেশি হয়। তবে শীতকালে টনসিল প্রদাহ হলেও খুব কম এবং প্রায় ৮৫% ভাইরাস দিয়ে হয়ে থাকে । আর যাদের শরীরে ইমিউনিটি শক্তি কম বা ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতা কম তাদের বেলায় ভাইরাসসমূহ বেশি আক্রান্ত করে।

টনসিলাইটিস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে ৷ যথাঃ
১) একিউট টনসিলাইটিস
২) ক্রনিক টনসিলাইটিস

সাধারণ লক্ষণঃ
* টনসিলাইটিস হলে মূলত গলা ব্যথা হয় ৷

* ঢোক গিলতে বা খেতে অসুবিধা হয় ।

* শরীরে সামান্য জ্বর থাকে, জ্বরের মাত্রা ১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট অথবা এর বেশিও হতে পারে।

* বড়দের ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা থাকতে পারে।

* অনেক সময় গলার স্বর পরিবর্তিত হয় বা বসে যায়, সেই সঙ্গে কম বেশি কাশিও হতে পারে। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ থাকে।

* খাদ্য খেতে অনীহা প্রকাশ পায় ৷

* ভাইরাসের কারনে হলে নাক দিয়ে পানি ঝরতে পারে।

* অনেকের ক্ষেত্রে গলার বাইরের দিকে গ্রন্থি ফুলে যেতেও দেখা যায়।

* ভাইরাসজনিত টনসিলাইটিসে টনসিলের প্রদাহ ধীরে ধীরে বাড়ে, ফলে উপসর্গগুলোও ধীরে ধীরে আবির্ভূ হয়। কিন্তু ব্যাক্টেরিয়াজনিত টনসিলাইটিস হঠাৎই তীব্র ভাবে আক্রমণ করে। তাই উপসর্গগুলো তাড়াতাড়ি প্রকাশ পায় ৷

* শিশুদের ক্ষেত্রে  বমি, পেটে ব্যথা থাকতে  পারে ৷ এমনকি ৫ বছরের কম বয়সীদের শিশুদের ডায়রিয়া সহ খাওয়ার অরুচির লক্ষণ দেখা যায়।

চিকিৎসাঃ
টনসিলাইটিসের চিকিৎসা দুইভাবে করা যায়।
১) ওষুধ সেবন
২) অপারেশন।

টনসিলের চিকিৎসা নির্ভর করে কারণের ওপর। যদি ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করলে মাত্র ৭ দিনে রোগী সুস্থ হয়ে যায় ।
আর যদি এন্টিবায়োটিক সেবন করার পরও না কমে তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অপারেশন করানো যেতে পারে।

মনে রাখবেন কারো কারো ক্ষেত্রে রোগটি সেরে যাওয়ার পরও টনসিল দুটি ছোট হতে কিছু সময় লাগে। আর এতে যদি ব্যথা না থাকে তাহলে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই।

জটিলতাঃ
টনসিল ইনফেকশন থেকে রিউম্যাটিক
ফিভার হয় এবং পরবর্তী সময়ে কিডনি ফেইল হতে পারে। এছাড়াও এ থেকে রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ হয়ে যেতে পারে।
অনেক সময় নরমাল টনসিলটি হঠাৎ দেখা গেল এক পাশে বড় হয়ে গেল। তখন   ঐ টনসিলে ক্যান্সার কিংবা টিউমার হবার সম্ভাবনা থাকে । সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর সাথে পরামর্শ করতে হবে এবং ক্যান্সার বা টিউমার ধরা পড়লে তখন  টনসিল অপারেশন করে কেটে ফেলে দিতে হবে ৷