জেনে নিন ওয়াইফাই (WIFI) এর ক্ষতিকর দিক সমূহ কি কি



বর্তমান যুগে  ইন্টারনেট ছাড়া জীবন ভাবাই যায়না । আর ওয়াইফাই এর কারনে তা আরও হাতের মুঠোয় এসে পৌছে গেছে। কিন্তু আমরা জানি কী এই ওয়াইফাই আমাদের শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর ? ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহারে  আমাদের শরীরে কী এর কোন প্রভাব  পড়ে না ? এর ব্যবহারে অবশ্যই মানব শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এর কারণ হিসেবে যেটা বলা যায়-  কোনো ডিভাইস এর সঙ্গে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক কানেক্ট করতে হলে কেবল বা তার  লাগে না। WLAN এর মাধ্যমে তা কানেক্ট করা হয়। আর এই WLAN সিগন্যাল বা ইলেক্ট্র ম্যাগনেটিক ওয়েভ মানব শরীরের জন্য মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। বরং এর কারনে মানব শরীরের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন এক ব্রিটিশ হেলথ্ এজেন্সি। আর শুধু প্রাণী নয়, উদ্ভিদও এর ক্ষতিকর  প্রভাব থেকে বাঁচতে পারে না।


WLAN-এর সিগন্যালের ফলে যে ল্যুপ সৃষ্টি হয়, তার প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলি দেখা যেতে পারে ৷ যেমনঃ

মনোযোগ সমস্যাঃ এর ক্ষতিকর রেডিয়েশনের কারনে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয় ৷ ফলে কোন কাজে মন বসে না কিংবা মন দিয়ে সুক্ষভাবে কোন কিছু চিন্তা করা সম্ভব হয় না ৷

ঘুমের সমস্যাঃ এই ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর আওয়াতায় যারা থাকেন তারা দীর্ঘদিন থাকলে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হয় ৷ ফলে রাত্রিকালীন সময়ে দেরীতে ঘুম আসে বা ঘুম আসলেও হালকা হালকা ঘুম আসে এবং একটুতেই ভেঙে যায় ৷

মাথা যন্ত্রণাঃ ওয়াইফাই এর একটা কমন ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে মাথা ব্যথা হওয়া ৷ আবার কারো কারো ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে পানি পড়তে দেখা গেছে ৷

কানে ব্যথাঃ কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে কানে ব্যথার অভিযোগ করেছে এবং কানে কম শুনতে পাচ্ছে ৷

ক্লান্তিঃ শারীরিক ভাবে অবসাদ এবং ক্লান্ত বোধ করে ৷ শরীর ঝিমিয়ে যায়, কোন কাজ করার মনোবল আসে না ৷

নারী স্বাস্থ্যঃ নারীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা এ বিকিরণের মধ্যে থাকেন, তাদের এনার্জি লেভেল অনেক কমে যায় ।

পুরুষ স্বাস্থ্যঃ গবেষনায় দেখা গেছে পুরুষের স্পার্ম ও ডিএনএ তে এই  বিকিরণের প্রভাব সুদূর প্রসারী। যার কারনে পুরুষ সন্তান জন্মদানে অক্ষম হতে পারে এবং সন্তান জন্ম দিলে প্রতিবন্ধী হতে পারে ৷

হার্টের সমস্যাঃ ওয়াইফাই চালু করলেই তার বিকিরণের প্রভাবে অনেকের হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে ৷

যাইহোক ওয়াইফাই এর ব্যবহার হয়ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা  এখন আর সম্ভব নয়। তবে তার কু-প্রভাব কমানোর জন্য  কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে ৷
যেমন-
১. বেডরুম বা রান্নাঘরে ওয়াইফাই'র রাউটার বসাবেন না।
২. যখন ওয়াইফাই  ব্যবহার করবেন না তখন ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন ৷
৩. মাঝেমধ্যে কেবল-এর সাহায্যে ফোন ব্যবহার করুন। আর ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন সে সময়ে।
৪. রাতের বেলা ঘুমানোর সময় ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ রাখুন।
৫.ঝড় বৃষ্টির সময় ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ রাখুন ৷

তাই আপনার বাড়িতে যদি ওয়াইফাই থাকে তাহলে দেরি না করে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করুন।