Piles বা অর্শ কি? জেনে নিন এর প্রতিকার






পাইলস হলো পায়ুপথে এবং মলদ্বারের নিচে অবস্থিত প্রসারিত এবং প্রদাহযুক্ত ফোলে ওঠা ধমনী৷ মলত্যাগের সময় মল শক্ত বা কষা হলে অথবা গর্ভকালীন সময়ে এই সমস্ত ধমনীর উপর চাপ বেড়ে গেলে পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়।

কি কি কারণে পাইলস হয়?

* দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রায় ভোগা
* খুব দেরি করে ঘুমানো বা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা
* এসিডিটি বেড়ে গিয়ে মল শক্ত হওয়া বা পরিষ্কার না হওয়া
* খুব সকাল বেলা ঘুম থেকে না উঠা
* প্রাত ভ্রমন না করে বিছানায় শুইয়ে থাকা
* শারীরিক পরিশ্রম না করা বা ব্যায়াম না করে আলসে জীবন যাপন করা
* দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা
* অতিরিক্ত ধুমপান বা মদ্যপানের কারনে পায়খানা শক্ত হওয়া
* অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেয়া
* মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা
* পায়খানায় বেশি সময় ধরে বসে থাকা
* দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া অথবা পায়খানা কষার সমস্যা দেখা দিলে
* অস্বাভাবিক রকম মোটা হলে

গর্ভবতী অবস্থায় পাইলস হয়েছে কি করে বুঝবেন ?
অর্শ্ব বা পাইলসে যে সব লক্ষণ দেখা দেয়
* মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত
* পায়ুপথ চুলকানো ও অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া
* মলদারে ব্যথা
* পায়ুপথ থেকে বাইরের দিকে ফুলে উঠা
* পায়ুপথের মুখে চাকা অনুভব করা ও ব্যথা।

পরীক্ষা-নিরীক্ষাঃ
* আঙ্গুল দিয়ে পায়ুপতের পরীক্ষা বা ডিজিটাল রেক্টাল এক্সামিন (Digital Rectal Examine) করা হয়।
* কলোনোস্কোপী (Colonoscopy)

চিকিৎসাঃ পাইলস অপসারনে শল্য চিকিৎসা বা সার্জারীই এলোপ্যাথিতে একমাত্র চিকিৎসা৷

পাইলস প্রতিরোধে যা মানতে হবেঃ
পাইলস চিকিৎসায় ঔষধের পাশাপাশি জীবন যাপন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন অানতে হবে, তবেই অারোগ্য সম্ভব৷ যেমন -
* পায়ুপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
* কুসুম গরম পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার জায়গাটা মুছতে/ভিজাতে হবে (H Bath)
* ফোলা কমানোর জন্য আক্রান্ত স্থানে বরফ ঘষতে হবে৷
* গরুর মাংস, কলা ও পাউরুটি খাওয়া যাবেনা৷
* উচ্চ আশঁযুক্ত খাবার, ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি বেশি করে খেতে হবে
* প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি এবং তরল জাতীয় খাদ্যদ্রব্য পান করতে হবে
* মলত্যাগের সময় কষা হলে বেশি চাপ প্রয়োগ করা যাবে না
* পায়খানা চেপে রাখা যাবে না
* ব্যায়াম করলে তা পায়খানার কষা ভাব দূর করতে সাহায্য করবে
* অনেকক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা থাকা যাবে না।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথিতে অপারেশন ব্যাতিত পাইলসের ভালো চিকিৎসা রয়েছে ৷ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করালে দ্রুত ও ভালো ফল পাওয়া যায় এবং সম্পূর্নরুপে অারোগ্য হয়ে যায়৷