নারীদের মাসিক চক্রে সেভ পিরিয়ড এবং ড্যানজার পিরিয়ড





আজকে নিয়ে আসলাম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় ৷ স্বামী স্ত্রী কোন দিন শারীরিক মিলন করলে বাচ্চা কনসেপ্ট করবে আর কোন সময় মিলন করলে বাচ্চা কনসেপ্ট করবে না বা প্রেগন্যান্ট হবে না সেই সম্পর্কে আজকের পোষ্ট ৷ আশা করি প্রত্যেক বিবাহীত ভাই বোনদের কাজে লাগবে এই পোষ্টটি ৷


নারীদের মাসিক স্রাব শেষ হবার পরদিনকে প্রথম দিন ধরে ৫ থেকে ৭ দিন, এই সময়কে বলা হয় Resting Phase.

এরপর ৮ - ১৪ দিন, এই সময়কে বলা হয় Proliferative Phase.


সাধারণত ১৩ থেকে ১৪ তম দিনে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু স্খলিত হয়। এরপর তা ফেলোপিয়ান নালী বেয়ে জরায়ুতে এসে অবস্থান করে। এই স্খলিত ডিম্বাণু ১৫ তম দিন থেকে শুরু করে ২৮ তম দিন পর্যন্ত জরায়ুতে অবস্থান করে। এই সময়কে বলা হয় Luteal Phase.

এরপর এই ডিম্বানু ১৪ - ১৭ দিনের মধ্যে পুরুষের শুক্রাণু না পেলে অর্থাৎ এই কয়দিন নারী পুরুষ শারীরিক মিলন না হলে তা নষ্ট হতে শুরু করে এবং ২৮ তম দিনে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর দুই থেকে তিন দিন হছে Bleeding Phase. এসময় নষ্ট ডিম্বাণু, জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম, রক্ত মিউকাস সহ বের হয়ে আসে যা আমরা মাসিক স্রাব বলে থাকি।

কাজেই আমরা জানতে পারলাম মাসিক শেষ হবার পর থেকে ১৪ তম দিনে ডিম্বাণু স্খলিত হয়। এই ডিম্বাণু স্খলিত হওয়ার আগে তিন দিন, স্খলিত হওয়ার দিন এবং পরে তিন দিন হচ্ছে হিট পিরিওড বা ড্যানজার পিরিয়ড বা বিপদ জনক সময় । এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে- ডিম্বানু স্খলিত হওয়ার আগে তিন দিন ধরা হয় কারন শুক্রানু তিন দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে ৷ আর পরে তিন দিন ধরা হয় কারন ডিম্বানু স্খলিত হওয়ার পর তিন দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে ৷

যাই হোক, এই সময় স্বামী স্ত্রী শারীরিক মিলন করলে বাচ্চা জন্ম লাভের সম্ভাবনা শতভাগ যদি তাদের অন্য কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে। আর বাদ বাকী অন্যান্য দিন গুলো নিরাপদ সময় বা সেভ পিরিয়ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

এখন কথা হচ্ছে অনেকের নিয়মিত মাসিক হয় না। তাদের ক্ষেত্রে এই নিরাপদ সময় বের করা কঠিন কাজ। কিন্তু যাদের মাসিক নিয়মিত অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় একই তারিখে হয় বা দুই একদিন আগে পরে হয়। তাদের ক্ষেত্রে মাসিক শেষ হবার পর ১০ দিন এবং শুরু হওয়ার আগে ১০ দিন হচ্ছে নিরাপদ সময় বা সেভ পিরিয়ড। তিন দিন হচ্ছে মাসিক চলাকালীন সময়। আর মাঝখানে থাকলো সাত দিন যা হিট পিরিয়ড।